মৃত্যুর আগে নিজের শেষ বক্তৃতায় যা বলেছিলেন খামেনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

রোববার, ০১ মার্চ ২০২৬ , ১২:৪০ পিএম


মৃত্যুর আগে নিজের শেষ বক্তৃতায় যা বলেছিলেন খামেনি
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ফাইল ছবি

বহু জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে নিজেদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর স্বীকার করেছে ইরান সরকার। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে ৪০ দিনের গণশোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে দেশটিতে।

রোববার (১ মার্চ) ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে নিশ্চিত হওয়া গেছে বিষয়টি। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালের দিকে খামেনির প্রাসাদ লক্ষ্য করে যখন হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র, সেই হামলাতেই প্রাণ হারান তিনি। প্রাসাদের কমাউন্ড থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন ইরানি উদ্ধারকারীরা।

স্যাটেলাইটে প্রকাশিত এক ছবিতে দেখা যায়, খামেনির প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। সেটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। খামেনি ছাড়াও তার মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাই নিহত হয়েছেন ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ওই হামলায়।

মৃত্যুর ১১ দিন আগে শেষবারের মতো জনসম্মুখে বক্তৃতা দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সেই বক্তৃতায় ইরানের জন্য প্রতিরোধক অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছিলেন তিনি।

জেনেভায় যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছিল, তখন তিনি এই বক্তৃতা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের প্রতিরোধক অস্ত্র থাকতেই হবে, যদি কোনো দেশের কাছে তা না থাকে, তাহলে সেই দেশ তার শত্রুদের পায়ের তলায় মিশে যেতে বাধ্য হয়।’

আরও পড়ুন

খামেনি বলেছিলেন, ‘প্রতিরোধক অস্ত্র আমাদের দেশের জন্য অতি জরুরি একটি বিষয়। আমেরিকানরা কোনো কারণ ছাড়াই এখানে নাক গলাচ্ছে। তারা বলে ‘তোমার এমন ধরনের মিসাইল থাকতে হবে, তোমার রেঞ্জ এতটুকু হতে পারবে, এর চেয়ে বেশি নয়’! এর মানে কী! তাতে তোমাদের সমস্যা কোথায়? এই ব্যাপারটা তো ইরানি জাতির।’

যুক্তরাষ্ট্রকে সেদিন কঠোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেছিলেন, ‘তাদের কাছে মনে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টও বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী; বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীও কখনো কখনো শক্তিশালী থাপ্পড় খেতে পারে, এতটাই শক্তিশালী যে, এরপর আর তারা উঠে দাঁড়াতে পারে না।’

উল্লেখ্য, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে এক বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া ওই বার্তায় খামেনিকে ‘ইতিহাসের অন্যতম এক নিষ্ঠুর ব্যক্তি’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প লিখেন, ইতিহাসের অন্যতম এক নিষ্ঠুর ব্যক্তি খামেনি মারা গেছেন। এটি শুধু ইরানের মানুষের জন্যই নয়, বরং সেইসব মার্কিনি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের জন্যও এক কাঙ্ক্ষিত বিচার—যাদের খামেনি এবং তার রক্তপিপাসু গুন্ডাবাহিনী হত্যা কিংবা পঙ্গু করে দিয়েছিল। তিনি আমাদের গোয়েন্দা এবং অত্যন্ত উন্নত ট্র্যাকিং সিস্টেম থেকে বাঁচতে পারেননি। ইসরায়েলের সাথে মিলে আমরা এমন এক অভিযান চালিয়েছি যে, খামেনি বা তার সাথে মারা যাওয়া অন্য নেতাদের আসলে কিছুই করার ছিল না।

তিনি লিখেন, ইরানের জনগণের জন্য তাদের দেশ ফিরে পাওয়ার এটাই সবচেয়ে বড় সুযোগ। আমরা খবর পাচ্ছি যে, ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড, সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ও পুলিশ বাহিনীর অনেকেই আর যুদ্ধ করতে চায় না এবং তারা আমাদের কাছে ক্ষমা বা নিরাপত্তা চাইছে। আমি গত রাতেই বলেছি, ‘এখনই সুযোগ, তারা চাইলে ক্ষমা পেতে পারে; কিন্তু দেরি করলে মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই পাবে না তারা।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এরপর আরও লিখেন, আশা করি, বিপ্লবী গার্ড এবং পুলিশ বাহিনী ইরানি দেশপ্রেমিকদের সঙ্গে একাত্ম হবে এবং এই দেশটাকে তার প্রাপ্য মর্যাদায় ফিরিয়ে নিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। সেই প্রক্রিয়া খুব দ্রুতই শুরু হওয়া উচিত। কারণ, শুধু খামেনির মৃত্যু নয়, মাত্র একদিনের ব্যবধানে দেশটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং বলতে গেলে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। তবে, মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই নিখুঁত এবং ভারী বিমান হামলা পুরো সপ্তাহজুড়ে অথবা প্রয়োজনমতো বিরতিহীনভাবে চলতে থাকবে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission